তওবা করে ২১ কাদিয়ানি যুবকের ইসলামগ্রহণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খতমে নবুওয়াত সম্মেলনে কাদিয়ানি ত্যাগ করে তওবা করে ২১ যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে মুসলিম ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ঈদগাহ ময়দানে আন্তর্জাতিক মজলিশে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা এই আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আশেকে এলাহী ইব্রাহিমী।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, যারা আমাদের নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে শেষ নবি হিসেবে না মানবে- তারা নিঃসন্দেহে কাফের।

২১ যুবকের নাম যথাক্রমে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মো. শিপন মিয়া, সফর আলী, ফখরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার সাদাত, সোহেল আহমেদ, স্বপন মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহরিয়ার ইমন, জহিরুল ইসলাম জনি, সালমান, ছিদ্দিক মিয়া, এলিয়ান সাদাত, আরিয়ান সাদাত, শ্যামল মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া-২, আল আমিন, সুমন মিয়া, রমজান মিয়া, রনি আহমেদ, মামুন মিয়া, ও উত্তর পৈরতালার ইকরাম হোসেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত খতমে নবুওয়াত সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তাদের শাহাদাত বাক্য পাঠ করান।

ইসলামগ্রহণকারী ২১ নওমুসলিমের মধ্যে মো. শিপন মিয়া, জাফর আলী ও ফখরুল ইসলাম নামে তিন যুবক উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা করেন।

বক্তৃতাকালে তারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেন, আমরা এতদিন জানতামই না কেন আমরা কাদিয়ানি। পরে ওলামা মাশায়েখের বক্তব্য ও অধ্যয়ন করে বুঝলাম বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহই (স.) সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। অথচ কাদিয়ানিরা মনে করে ভণ্ড গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে অস্বীকার করলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে। তাই স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে আমরা হেদায়াতের পথে ফিরে এসেছি। এখন থেকে এ ভ্রান্ত বিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সকালে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঈদগাহ ময়দানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় খতমে নবুওয়াত সম্মেলন। কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার করার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিশে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত নামক সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেম-উলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।