থামছেই না করোনার মৃত্যুর মিছিল, চীনে নিহত বেড়ে ২৭৮৮

করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। একের পর এক নতুন নতুন দেশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলেছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী চীনে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৮৮ জনে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানায়।

চীনের স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, বৃহস্পতিবার চীনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ এর আগের দিন এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ২৯ জনের। গত একমাসের মধ্যে একদিনে সেটিই ছিল সর্বনিম্ন মৃত্যুর হার।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হন ৩২৭ জন। যদিও এর আগের দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৩৩। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৮ হাজার ৮২৪ জনে। নতুন করে মৃত ও আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগই হুবেই প্রদেশের বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ২৫৬ জন। এই নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২হাজার২২জনে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ১৮২জনই দায়েগু শহরের।এই দায়েগু শহরের একটি হাসপাতাল এবং একটি ধর্মীয় গ্রুপ থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়াতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ জন।

করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেডরস আধানম ঘেব্রেয়েসাস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। এখনই থামানো উচিত। এই ভাইরাস রোধে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সময় হয়ে গেছে।

বিবিসি বলছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চীনের বাইরে এর আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করেছে। ইরান ও ইটালিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওসেম এবতেকার আক্রান্ত হয়েছেন।

ডা. টেডরস বলেন, চীনের বাইরের পরিস্থিতি এখন আরো বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী ৫০টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার মানুষ ও নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮শ।

উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।